| সুরা ইখলাস |
সুরা ইখলাস পবিত্র কোরআনের ১১২ নম্বর সূরা। এটি একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূরা, যেখানে আল্লাহ তাআলার একত্ব, অমুখাপেক্ষিতা এবং তাঁর অতুলনীয় সত্তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সুরা ইখলাসে মোট ৪টি আয়াত রয়েছে।
এই সূরাটি মুখস্থ করা সহজ হওয়ায় মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপকভাবে পাঠ করা হয়। হাদিসে সুরা ইখলাসের বিশেষ মর্যাদার কথাও উল্লেখ রয়েছে। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, সুরা ইখলাস কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য।
সুরা ইখলাসের পরিচয়
- সূরার নাম: আল-ইখলাস
- ক্রমিক নম্বর: ১১২
- আয়াত সংখ্যা: ৪
- মূল বিষয়: আল্লাহর একত্ব ও তাওহিদ
- আরবি নাম: الإخلاص
- অর্থ: একনিষ্ঠতা বা একত্বের প্রতি আন্তরিক বিশ্বাস
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ - اللَّهُ الصَّمَدُ - لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ - وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ :
কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুচ্চামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ।’ (মাখরাজসহ বিশুদ্ধ উচ্চারণ শিখে নেয়া জরুরি )
অর্থ :
(হে রাসুল! আপনি) বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। আর তার সমতুল্য কেউ নেই।’ (সুরা ইখলাস)
সুরা ইখলাসের ফজিলত
সুরা ইখলাসের অন্যতম প্রসিদ্ধ ফজিলত হলো এটি কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য।
সহিহ বুখারির ৫০১৩ নম্বর হাদিসে আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ সুরা ইখলাস সম্পর্কে বলেছেন যে এটি কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য।
সহিহ মুসলিমেও একই মর্মের বর্ণনা রয়েছে। সেখানে সুরা ইখলাসকে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য বলা হয়েছে।
এর অর্থ এই নয় যে শুধু সুরা ইখলাস পড়লেই পুরো কোরআন তিলাওয়াত করার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। বরং হাদিসে এর বিশেষ মর্যাদা ও সওয়াবের সমতুল্যতার কথা বলা হয়েছে। তাই কোরআনের অন্যান্য সূরা ও আয়াতও নিয়মিত তিলাওয়াত করা উচিত।
ঘুমানোর আগে সুরা ইখলাস পড়া
সহিহ হাদিসে ঘুমানোর সময় সুরা ইখলাসের সঙ্গে সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করার আমল পাওয়া যায়। তাই রাতে ঘুমানোর আগে এই তিনটি সূরা পড়া সুন্নাহসম্মত আমলের অন্তর্ভুক্ত।
এক্ষেত্রে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে নিজের ওপর ফুঁ দেওয়ার বর্ণনাও হাদিসে এসেছে।
সুরা ইখলাস ছোট হলেও এর শিক্ষা অত্যন্ত গভীর। এই সূরার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার একত্ব ও মহত্ত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। তাই শুধু সুরাটি মুখস্থ করাই নয়, এর অর্থ বুঝে তিলাওয়াত করা এবং জীবনে তাওহিদের শিক্ষা বাস্তবায়ন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
হাদিসে সুরা ইখলাসের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, তাই নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি এই সূরাটিও আমল করা যেতে পারে।
Comments
Post a Comment