| দুই সিজদার মাঝের দোয়া |
দুই সিজদার মাঝের দোয়া: আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ
নামাজের প্রতিটি রুকনেই নির্দিষ্ট দোয়া ও জিকির রয়েছে। দুই সিজদার মাঝের দোয়া নামাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসনুন দোয়া। প্রথম সিজদা থেকে উঠে দুই সিজদার মাঝখানে বসার সময় এই দোয়া পড়া হয়।
রাসুলুল্লাহ ﷺ দুই সিজদার মাঝখানে “ رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي” অর্থাৎ “হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন” বলতেন। এই বর্ণনাটি হুযাইফা (রা.) থেকে এসেছে এবং সুনান ইবনু মাজাহ ৮৯৭-এ উল্লেখ রয়েছে।
হজরত হুজায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকে এ দোয়াটি পড়তেন-
رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي
উচ্চারণ :
রব্বিগফির লী, রব্বিগফির লী। (ইবনু মাজাহ, আবু দাউদ)
অর্থ :
হে আমার রব্ব! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। হে আমার রব্ব! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।
এই সংক্ষিপ্ত দোয়ার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহ ও ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।
দুই সিজদার মাঝের দোয়া কখন পড়তে হয়?
নামাজে প্রথম সিজদা করার পর সিজদা থেকে উঠে বসতে হয়। এই বসার সময়ই দুই সিজদার মাঝের দোয়া পড়া হয়। এরপর দ্বিতীয় সিজদা করা হয়।
অর্থাৎ নামাজের ধারাবাহিকতা হলো:
প্রথম সিজদা → উঠে বসা → দুই সিজদার মাঝের দোয়া → দ্বিতীয় সিজদা
হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া পড়ার বর্ণনা রয়েছে।
দুই সিজদার মাঝের দোয়া কতবার পড়তে হয়?
হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে “রব্বিগফির লি, রব্বিগফির লি” দুইবার বলার বর্ণনা রয়েছে।
তাই এই দোয়াটি দুইবার পড়া যেতে পারে:
রব্বিগফির লী, রব্বিগফির লী।
তবে দুই সিজদার মাঝের দোয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন হাদিসে কিছুটা দীর্ঘ দোয়াও বর্ণিত হয়েছে।
দুই সিজদার মাঝের দীর্ঘ দোয়া
ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ দুই সিজদার মাঝে এই দোয়া পড়তেন:
اَللّهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগফিরলি, ওয়ারহামনি, ওয়াহদিনি, ওয়া আফিনি, ওয়ারযুকনি। (মুসলিম, মিশকাত)
অর্থ : হে আল্লাহ আপনি আমাকে মাফ করুন, আমাকে রহম করুন, আমাকে হেদায়েত দান করুন, আমাকে শান্তি দান করুন এবং আমাকে রিজিক দান করুন।
এই বর্ণনাটি জামে আত-তিরমিজি ২৮৪-এ উল্লেখ আছে।
দুই সিজদার মাঝের দোয়ার গুরুত্ব
এই দোয়ার মধ্যে একজন মুসলিম আল্লাহর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় প্রার্থনা করে। যেমন—
- আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া
- আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করা
- হেদায়েত চাওয়া
- নিজের ঘাটতি ও দুর্বলতা পূরণের জন্য প্রার্থনা করা
- হালাল রিজিকের জন্য দোয়া করা
বিশেষ করে “রব্বিগফির লী, রব্বিগফির লী” অর্থাৎ “হে আমার রব্ব! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।”—এই ছোট দোয়াটি বান্দার বিনয় ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার অর্থ বহন করে।
দুই সিজদার মাঝের দোয়া ভুলে গেলে কী করবেন?
নামাজে কোনো দোয়া মুখস্থ না থাকলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রথমে দোয়াটি সঠিকভাবে শেখার চেষ্টা করা উচিত। “রব্বিগফির লী” খুব ছোট হওয়ায় সহজেই মুখস্থ করা যায়।
ধীরে ধীরে আরবি উচ্চারণ শিখে নামাজে সঠিকভাবে পড়ার অভ্যাস করা ভালো।
দুই সিজদার মাঝের দোয়া সম্পর্কে হাদিস
হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সঙ্গে নামাজ পড়ে শুনেছেন যে, তিনি দুই সিজদার মাঝে বলতেন:
“রব্বিগফির লী, রব্বিগফির লী। ”
সুনান ইবনু মাজাহ ৮৯৭-এ এই বর্ণনাটি উল্লেখ রয়েছে এবং সেখানে হাদিসটির মান সহিহ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও আবু দাউদ, নাসায়ি ও অন্যান্য হাদিসগ্রন্থে দুই সিজদার মধ্যবর্তী দোয়ার বর্ণনা পাওয়া যায়।
দুই সিজদার মাঝের দোয়া নামাজের গুরুত্বপূর্ণ মাসনুন দোয়াগুলোর একটি। রাসুলুল্লাহ ﷺ দুই সিজদার মাঝে “রব্বিগফির লী, রব্বিগফির লী। ” বলতেন। এর অর্থ হলো, “হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন।”
এছাড়াও হাদিসে আরও দীর্ঘ দোয়ার বর্ণনা রয়েছে, যেখানে ক্ষমা, রহমত, হেদায়েত ও রিজিকসহ বিভিন্ন কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে।
তাই নামাজের এই অংশের দোয়াটি সঠিকভাবে শিখে অর্থ বুঝে পড়ার চেষ্টা করা উচিত।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে নামাজ আদায় করার এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
Comments
Post a Comment