দোয়া কুনুত: আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও পড়ার নিয়ম

 

দোয়া কুনুত
দোয়া কুনুত

দোয়া কুনুত মুসলমানদের কাছে পরিচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া। বিশেষ করে বিতর নামাজের সঙ্গে দোয়া কুনুতের সম্পর্ক রয়েছে। অনেকেই দোয়া কুনুতের আরবি, বাংলা উচ্চারণ, বাংলা অর্থ এবং নামাজে এটি কখন পড়তে হয়—এসব জানতে চান।

এই লেখায় সহজ ভাষায় দোয়া কুনুতের আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, পড়ার সময় এবং মুখস্থ করার কিছু সহজ কৌশল তুলে ধরা হলো।

দোয়া কুনুত কী?

কুনুত শব্দের মধ্যে আনুগত্য, বিনয় ও আল্লাহর কাছে নিবেদনের ভাব রয়েছে। দোয়া কুনুতে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাঁর ওপর ঈমান ও ভরসা প্রকাশ করা এবং তাঁর রহমতের আশা করার বিষয়গুলো রয়েছে।

বিতর নামাজের সঙ্গে প্রচলিত যে দোয়াটি বাংলাদেশে বেশি পড়া হয়, সেটিই সাধারণভাবে দোয়া কুনুত নামে পরিচিত।

দোয়া কুনুত আরবি

اَللَّهُمَّ اِنَّ نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ-اَللَّهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ

দোয়া কুনুত বাংলা উচ্চারণ

 আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতায়িনুকা ওয়া নাসতাগ ফিরুকা, ওয়ানু’মিনু বিকা ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুছনি আলাইকাল খাইর। ওয়া নাসকুরুকা ওয়ালা নাক ফুরুকা, ওয়ানাখলাউ উয়ানাত রুকু মাইয়্যাফযুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকানা’বুদু ওয়ালাকা নুছল্লি, ওয়ানাস জুদু ওয়া ইলাইকা নাসয়া, ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা আজাবাকা; ইন্না আজাবাকা বিলকুফফারি মুলহিক্।

দোয়া কুনুতের বাংলা অর্থ

হে আল্লাহ! আমরা তোমারই সাহায্য চাই। তোমারই কাছে ক্ষমা চাই, তোমারই প্রতি ইমান রাখি, তোমারই ওপর ভরসা করি এবং সব মঙ্গল তোমারই দিকে ন্যস্ত করি। আমরা তোমার কৃতজ্ঞ হয়ে চলি, অকৃতজ্ঞ হই না। হে আল্লাহ! আমরা তোমারই দাসত্ব করি, তোমারই জন্য নামাজ পড়ি এবং তোমাকেই সিজদাহ করি। আমরা তোমারই দিকে দৌড়াই ও এগিয়ে চলি। আমরা তোমারই রহমত আশা করি এবং তোমার আজাবকে ভয় করি। আর তোমার আজাব তো কাফেরদের জন্যই নির্ধারিত।

দোয়া কুনুত কখন পড়তে হয়?

বাংলাদেশে প্রচলিত হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাতে কিরাআত শেষ করার পর দোয়া কুনুত পড়া হয় এবং এরপর রুকুতে যাওয়া হয়।

তবে বিভিন্ন মাজহাবে বিতর ও কুনুত পড়ার পদ্ধতিতে কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাই নিজের অনুসৃত মাজহাব বা নির্ভরযোগ্য আলেমের নির্দেশনা অনুসরণ করা উত্তম।

বিতর নামাজে দোয়া কুনুতের অবস্থান

সহজভাবে মনে রাখার জন্য:
  • বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাতে দাঁড়ানো হয়।
  •  সূরা ফাতিহা পড়া হয়।
  •  এরপর অন্য একটি সূরা বা কিরাআত পড়া হয়।
  •  প্রচলিত হানাফি পদ্ধতিতে কুনুতের তাকবির দিয়ে দোয়া কুনুত পড়া হয়।
  • এরপর রুকু করা হয়।
বিতর নামাজের বিস্তারিত পদ্ধতিতে মাজহাবভেদে পার্থক্য থাকতে পারে।

দোয়া কুনুত না জানলে কী করবেন?

দোয়া কুনুত এখনো মুখস্থ না থাকলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। নামাজের নির্দিষ্ট মাসআলা মাজহাব ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে বিতর নামাজে কুনুত পড়তে না পারলে কী করতে হবে—এ বিষয়ে নিজের অনুসৃত ফিকহ অনুযায়ী একজন নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছ থেকে জেনে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

ইন্টারনেটে পাওয়া যেকোনো একটি পদ্ধতিকে সবার জন্য একই নিয়ম ধরে নেওয়া উচিত নয়।

দোয়া কুনুত শুধু মুখস্থ করার একটি দোয়া হিসেবে না দেখে এর অর্থ ও বক্তব্য বোঝার চেষ্টা করা উচিত। আরবি পাঠের পাশাপাশি সঠিক উচ্চারণ শেখা এবং দোয়ার অর্থ উপলব্ধি করা একজন মুসলিমের জন্য উপকারী।

বিতর নামাজ ও দোয়া কুনুতের নিয়মে মাজহাবভেদে কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট ফিকহি বিষয়ে দ্বিধা থাকলে নিজের এলাকার বিশ্বস্ত আলেমের কাছ থেকে মাসআলা জেনে নেওয়াই উত্তম।


Comments