আয়াতুল কুরসি | আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

আয়াতুল কুরসি
আয়াতুল কুরসি


আয়াতুল কুরসি: আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

আয়াতুল কুরসি পবিত্র কুরআনের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি আয়াত। এটি সূরা আল-বাকারা-এর ২৫৫ নম্বর আয়াত। এই আয়াতে আল্লাহ তাআলার একত্ব, তাঁর চিরঞ্জীব ও সর্বময় ক্ষমতার কথা, তাঁর অসীম জ্ঞান এবং আকাশ ও পৃথিবীর ওপর তাঁর পূর্ণ কর্তৃত্বের কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ সাহাবি উবাই ইবনু কাব (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কুরআনের কোন আয়াতটি সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি “আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম”—অর্থাৎ আয়াতুল কুরসি উল্লেখ করলে নবী ﷺ তাঁর উত্তরের প্রশংসা করেন। এটি সহিহ মুসলিমের ৮১০ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। 

আয়াতুল কুরসি আরবি

 اَللهُ لآ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ، لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ، لَهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيْطُوْنَ بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَ هُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ-
সূরা আল-বাকারা: ২৫৫

আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ

আল্লাহু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম, লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহু মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্ব। মান জাল্লাজি ইয়াশফা’উ ইনদাহু ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইয়ুহিতুনা বিশাইইম মিন্ ইলমিহি ইল্লা বিমা- শাআ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়াতি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুয়াল আলিয়্যূল আজিম।

আয়াতুল কুরসির বাংলা অর্থ

আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে পাকড়াও করতে পারে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তারই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতীত এমন কে আছে যে তাঁকে সুপারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পেছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান।

কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত

সহিহ মুসলিম ৮১০-এর হাদিসে উবাই ইবনু কাব (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ আয়াতুল কুরসিকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি

সহিহ বুখারি ২৩১১-এর দীর্ঘ হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়লে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক থাকার এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান কাছে না আসার কথা বলা হয়েছে। নবী ﷺ পরে জানান যে, কথাটি বলা ব্যক্তি ছিল শয়তান হলেও সে বিষয়ে সে সত্য বলেছিল। 

তাই ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

কখন আয়াতুল কুরসি পড়া যায়?

আয়াতুল কুরসি কুরআনের একটি আয়াত। তাই কুরআন তিলাওয়াত ও যিকিরের অংশ হিসেবে এটি পড়া যায়।

বিশেষভাবে সহিহ হাদিসে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। 

এছাড়া কেউ আল্লাহর স্মরণ হিসেবে দিনের বিভিন্ন সময় কুরআন তিলাওয়াত করতে পারেন।

আয়াতুল কুরসি কি সূরা?

না। আয়াতুল কুরসি একটি আয়াত, কোনো স্বতন্ত্র সূরা নয়। এটি সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত।

আয়াতুল কুরসি কুরআনের অন্যতম মহান ও মর্যাদাপূর্ণ আয়াত। এতে আল্লাহ তাআলার একত্ব, তাঁর চিরঞ্জীবতা, অসীম জ্ঞান, সর্বময় ক্ষমতা এবং আকাশ ও পৃথিবীর ওপর তাঁর কর্তৃত্বের কথা বর্ণিত হয়েছে।

সহিহ মুসলিমের হাদিসে এটি কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে এবং সহিহ বুখারিতে ঘুমানোর আগে এটি পাঠের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। 

তাই শুধু মুখস্থ করার পাশাপাশি আয়াতুল কুরসির অর্থ বোঝা এবং এর শিক্ষা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ আমাদের কুরআন শুদ্ধভাবে পড়া, বোঝা এবং তার শিক্ষা অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Comments